যেখানে পরিবারের সম্মান টা সবচেয়ে বড়

লগ্নভ্রষ্টা লগ্নজিতা
অনুপ চক্রবর্তী
বসন্তের কোনো এক সকালে লগ্নজিতাদের বাড়িতে হটাৎ এসে উপস্থিত হন কিছু সংখ্যক মানুষ। এতগুলো মানুষকে একসাথে দেখে লগ্নজিতা চমকে উঠে।মাকে ডেকে জিজ্ঞেস করে………
— কে ওনারা মা ?
— ওরা বরপক্ষ। তোকে বিয়ের জন্য দেখতে এসেছে।
এ কথা শোনা মাত্র লগ্নজিতা চোখের সামনে বিজলী চমকানো দেখতে পায়নি।
— কিন্তু মা আমিতো এসবের কিছুই জানি না আগে থেকে।
— চুপ কর।ওনারা শুনতে পাবে।আর জানার কি আছে ? এবার পূজায় যে নীল শাড়ি কিনেছি।সেটা পড়ে নে। কিছুক্ষণ বাদে ওনারা তোকে দেখবে।
লগ্নজিতা পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে শাড়িটা পড়ে পাশের রুমে যায়। লগ্নজিতা বুঝতে পারে তার সামনে বসে ঐ টাক পড়া লোকটা পাত্র। এরই মধ্যে ছেলের কাকা লগ্নজিতা কে প্রশ্ন করে……….
— কি নাম তোমার মা ?
— লগ্নজিতা
— তো কিসে পড়াশুনা কর ?
— এইবার এইচএসসি দেবো। মানবিক বিভাগ থেকে।
— তো এই সাদা কাগজে তোমার নাম, পরিচয় লেখ তো।
লগ্নজিতা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। যেখানে পরিবারের সম্মান টা সবচেয়ে বড়।
পূর্বেই বলে রাখা প্রয়োজন,প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে প্রেম আসে। লগ্নজিতা র মনেও বসন্ত র দোলায় মন দুলেছিল।  ছেলেটার নাম কিশোর।এক সাথেই পড়তো তারা। কথাটা কোনো ভাবে জেনে যায় লগ্নজিতার পরিবার। কিশোর গরীব ঘরের সন্তান। পিতা দিনমজুর। লগ্নজিতা র বাবা-মা চিন্তা করে তার ঘরে তাদের মেয়ে সুখী হতে পারবে না। লগ্নজিতা র বয়স কম। বাবা মা র বিরুদ্ধে ও যেতে পারে না। কিশোর ও তাই ,তার এ অভাবের সংসার । যেখানে মুখ ফুটে তো বুক ফুটে না। তারা দুজন হাতে হাত রেখে প্রতিজ্ঞা করেছিল কখনো তারা আলাদা হবে না।
 এরই মাঝে বিয়ের দিন উপস্থিত। চারিদিকে সুসজ্জিত।সানাই র শব্দে মুখরিত বাড়ির পরিবেশ। আত্নীয় স্বজন এসেছে। এত কিছুর পরও লগ্নজিতার মনে প্রিয়জন কে না পাওয়ার বেদনা। ছেলের বাড়ি টাঙ্গাইল লগ্নজিতা র বাড়ি থেকে বেস দূরে । সন্ধ্যা লাগতে না লাগতেই বর বেশে উপস্থিত অপূর্ব। রাত্রি ৯ টা তে বিয়ের লগ্ন। সন্ধ্যা ৬ টার সময় এক বান্ধবী কে সঙ্গে নিয়ে সাজতে বিউটি পার্লারে যায় ‌। হটাৎ লগ্নজিতা র বান্ধবী প্রশ্ন করে…….
— তুই কিশোর কে বিয়ে করতে চাস ?
এক মূহুর্ত লগ্নজিতা র মনে সেই বসন্ত দোলা দেয়। যে বসন্তের দোলায় দুলছে কিশোরের প্রেমে।
— কিশোর তোকে বিয়ে করতে আসছে। আমার সাথে এই মাত্র মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে।
 লগ্নজিতা ও ঠিক করে নিয়েছে কিশোর কে বিয়ে করবে।তাকে যেন কোন কিছুই আর বাধা দিতে পারবে না। ৯ টা বাজতে চলেছে। লগ্নজিতা এখনো ফেরে নি । লগ্নজিতা কে খোঁজা খুঁজি চলছে। আত্নীয় স্বজন জেনে গেছে কনে পালিয়েছে। বর পক্ষ লগ্নজিতা র বাবা-মা কে ভীষণ অপমান করে। এই দিকে কিশোর ও এসে পৌঁছায় না। তোকে কল দিলে ফোনের ঐ পাশ থেকে একটা অচেনা কন্ঠস্বর ভেসে আসে। ওনি হাসপাতালে। যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। সেখানেই মারা যান………

আপনার মতামত দিন