রম্য গল্প : প্রতিদিনের হা-হুতাশ

হাসান মোস্তাফিজ

সখ করে শুরু করা স্মোকিং এখন নেশা। দিনে কতটা টানি তার হিসেব নাই। হিসেব রাখার সময় কই?

ইদানীং ছড়া লেখা শুরু করেছি। লেখক আমি, পাঠকও আমি। কিন্তু টিটকারিওয়ালা ছিল বাকিরা। এমনকি একদিন ইশারা সাহেব এসে বললেন- তুমি বলে ছড়া লিখো? লেখাপড়া ছেড়ে দিচ্ছো তাহলে? তা বেশ তো, আমার বড় মেয়ের একটা কাজের মেয়ে লাগবে। ওর বাড়িতে কাজ করবে?
আমি বললাম- কাজের মেয়ে লাগবে কিন্তু আমি তো ছেলে? আর আংকেল, লিঙ্গচেঞ্জ অপারেশনের কস্টিং অনেক। মনে করেন আপনার যতগুলা হোস্টেল আছে সব বিক্রি করে দিলেও টাকা জোগাড় হবে না।
ইশারা সাহেব ‘অশ্লীল অশ্লীল’ বলে ছুটে পালিয়ে গেলেন।

একদিন সরলমনে ভাবছি আমার ভূড়ি থাকলে কোমরের সাইজ কত হত ঠিক তখনই একটা ফোন আসল। চিনি না তবে গ্রামীণ নম্বর। অর্থাৎ যে ফোন দিসে সে হয় তারছে‍ঁড়া অথবা ল্যাকটোজ ইনটোলারেন্ট। খেয়াল করে দেখেছি যারা গ্রামীণের সিম ইউজ করে তাদের কোনো না কোনো শারীরিক কিংবা মানসিক সমস্যা থাকে। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে অস্বাভাবিক কিন্তু নরম মেয়েলি কণ্ঠ বললো- আমাকে একটা বোরখা বানিয়ে দাও।
এর উত্তর কি দিব ভাবার আগে ব্রেনে একটা তোলপাড় শুরু হল। ভেবে দেখলাম আমার ফ্যামিলিতে অনেকেই বোরখা পড়েন কিন্তু বোরখার দোকান তো দেননি। বলব রং নম্বর তার বদলে বললাম- কি কালার?
সে আরো উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল- বাদামি সাথে হালকা কালো।
এরকম কাপড় আছে কিনা কে জানে তাও বললাম-আচ্ছা।
বলে রেখে দিলাম।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর ম্যাসেজ এলো- তুমি ঘাবড়ালে না কেন?
আরে কি আপদ! ধরে বেধে কাউকে ঘাবড়ানো যায় কিনা সেটা গবেষণার ব্যাপার কিন্তু আমার ইচ্ছা করছে ওপাশের বোরখা আকাঙখাকারীকে কষে একটা ধাক্কা মারতে (মেয়ে মানুষ, থাপ্পড় মারা যায় না)।
আমি ম্যাসেজ দিলাম। খাতা খুলে বসলাম ছড়া লিখব। তখনই ফোন আসল আবার। সেই নম্বর। বুঝতে পারছি না ধরব কিনা। যে প্রথমেই বলে বোরখা বানিয়ে দিতে সে যদি এখন বলে হিযাব বানিয়ে দিতে- রং হালকা কালো তাহলে অবাক হব না। তাও ধরলাম। ধরতেই ও বলল- আমার নাম মনীষা।
আমি সেলফিবাজ তরুণীদের মতো বললাম- ওকে।
মনীষা নামধারী গ্রামীণ সিম ব্যবহারকারী ভদ্র টিনেজার থামলো না। সে আরো গদগদভাবে বলল- আমি তোমার সাথে আরো কথা বলতে চাই।
আমার মনটাই খারাপ হয়ে গেল। বোরখা নিয়ে আমার জ্ঞান যেমন কণা পরিমাণ তেমনি বোরখা নিয়ে আমার ইতিহাসও খুব খারাপ। একবার কাপড়ের দোকানে বলেছিলাম ঐ পাঞ্জাবিটার দাম কত।
দোকানদার হাসিমুখে বলেছিলো- আংকেল, এটা দিয়ে পাঞ্জাবী বানাতে গেলে তাহলে হিযাবটাকে কেটে ওটা দিয়ে ২৫ টা টুপি বানাতে হবে।
যেই বলতে যাব “go to hell” টাইপ কথা ওমনি মেয়েটা ভেক্টর শখ দিলো। বলে উঠল-আমি তোমার ছড়ার অনেক বড় ফ্যান।
এবার কেন জানি তৈলাক্ত বোধ করলাম। বাহ! ছড়া দিয়ে পটায় ফেলেছি? ব্যাপারটা নকল আইফোন দিয়ে বসুন্ধরার সামনে ভাব নেওয়ার মতো হয়ে গেল। আমি যথেষ্ট চেষ্টায় একজন ফেরিওয়ালার মতো বললাম- আমার কোন ছড়াটা আপনার ভালো লেগেছে।
মেয়েটা সেলফিবাজ তরুণীদের মতো বলল- সেটা কি জরুরি? নাকি তোমার কথার খেলায় আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলছি সেটা দরকারি?
বাহ! সেলফি তরুণী দেখি কথার ভেলকি জানে। এরপর অনেকদিন কথা হল। আমি কোনোদিন রাত জাগার হিসাব রাখিনি কিন্তু ঐদিন আমি ঠিক ৪ ঘণ্টা রাত জাগলাম। মাঝখানে সৌরভ ভাই বাথরুম থেকে ফিরে এসে বলল- অমল, আমি বদনার শুড় ভেঙ্গে ফেলেছি।
কোনো ফাঁকে সেটা মনীষার কানে গেল। সে বলল- এই বদনা নিয়ে ছড়া বানাও তো।
কিচ্ছু না ভেবে একগাদা মাছির মতো ছিইইই করে বললাম-

ভাবে অশ্লীল
তবে অনেক উপকারী
পবিত্র হতে চাইলে
বাথরুমে থাকা অত্যন্ত জরুরি।

মনীষা বলে উঠল- অসাধারণ।
আমি যেন ওর চেয়েও অনেক খুশি হয়ে উঠলাম।
পরেরদিন কলেজে সবাইকে এটার গল্প করলাম। ইনু বলে উঠল- তোকে ডোলা শার্ট দেখলে আমারো মনে হয় তুই বোরখা পড়ে আছিস।
আবরার সিরিয়াস টাইপের টাউট। ও বলল- আচ্ছা হুট করে তোকে কিভাবে ফোন দিলো?তোর নম্বর পেলো কোথায়?
এই উত্তরেই ফোকাস করা উচিত ছিল, কিন্তু না আমি ওদের শখ করে শোনালাম বদনার গল্প। এতেই মোটামুটি তান্ডব শুরু হয়ে গেল, ক্লাসে সবাই চিৎকার করতে লাগলো ‘’বদনা, বদনা” বলে। এমনকি যখন অতি কষ্টে হোস্টেল ফিরে এলাম দেখি আমার কলেজ শার্টে অতি কৌশলে লিখে রেখেছে-

‘বাথরুমের বদনা
অমলের সাধনা’

আমার উচিত উগ্রভাবে রাগ করা তার বদলে আমি ঐ ব্যাটার প্রশংসা না করে পারলাম না।কি নিখুঁতভাবে কাজটা করেছে। আমি টেরই পাই নি।
শার্ট নিয়ে হোস্টেলের বুয়াকে দিয়ে আসতেই আরেক ঝামেলা। ইশারা সাহেব এসে বললেন-অমল, কোনো অসুবিধা নেই। তুমি ইচ্ছা করলে আমার মেয়ের বাসায় কাজ করতে পারো।কোনো অপারেশন করতে হবে না।
আমি হাসিমুখে বলে উঠলাম- তাহলে আংকেল আপনার নিজের অপারেশন করতে হবে।
ইশারা সাহেব আতঙ্কিত হয়ে বললেন- কেন কেন?
আমি বললাম- না মানে, আপনি খাটো হয়ে যাচ্ছেন। সেটার জন্য
উনি হতভম্ব হয়ে বললেন- আমি খাটো হয়ে যাচ্ছি?
আমি নরম গলায় বললাম- জ্বী আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন আপনি হোস্টেলের বুয়ার চেয়েও খাটো হয়ে গেছেন।
– না না কি বলো।
আমি, ‘বিশ্বাস না হলে করবেন না। বলে চলে আসছি’। আমি জানি উনি এখন বুয়ার সাথে ঝগড়া করবেন।
আমি বসলাম ছড়া লিখতে। মন খুলে ছড়া লিখব। মনের সুখে মনীষার কথা কল্পনা করছি।মনীষা দেখতে কেমন হবে জানি না। কিন্তু বারবার মনে হয় ও হবে কালো রঙের মেয়ে।কালো মেয়েরা দেখতে কালো হলেও তাদের মুখের কাঠামো এঞ্জেলোর মূর্তির মতো নিখুঁত হয়।
সবাই আমাকে সাবধান করছে ওর ব্যাপারে কিন্তু আমার যুক্তি হল যার কণ্ঠ সুন্দর সে আর যাই হোক কাউকে ধোকা দিবে না।
প্রতি রাতে এভাবে আমাদের কথা হতে লাগলো। অষ্টম আশ্চর্য হল যখনই আমি ওর সাথে কথা বলতে যাই, সৌরভ ভাইয়ের বদনার সাথে কোনো কেলেঙ্কারি ঘটেই। যেমন বর্তমানে উনি লুঙ্গি পড়ে শোন। কিছুদিন আগে যখন মনীষার সাথে কথা বলছিলাম উনি তখনই বাথরুম থেকে বের হলেন। দেখলাম ওনার লুঙ্গি ভালোমতই ছিড়েছে। আমার কিছু বলতে হলো না। উনিই গলা ছেড়ে বলা শুরু করলেন- অমল দেখ দেখ। বদনার সাথে লুঙ্গি পেচিয়ে গেছিলো। এখন দেখ, ছিড়ে গেছে।
আমি বললাম- ভাই, আপনার বদনাই কেন ব্যবহার করতে হবে?
সৌরভ ভাই বললেন- ছিঃ কি বলিস এসব। বদনা ব্যবহার না করলে….
-এই থামেন থামেন।
ওদিকে মনীষা বলে- এই থামাচ্ছো কেন? শুনি না কি বলে।
ওর প্রতি আমি এতই ঝুকে পড়লাম যে আমি ওর কথা ভুলে গেলাম। সৈকতের সাথে ওর যে ভালোই চলছে সেটা প্রায়ই শুনি। সৈকত আবার ফেসবুক কবি। প্রায়ই যে ওরা দেখা করে সেগুলো নিয়ে সে কবিতা লিখে। যখন এসব টাইমলাইনে আসে ইচ্ছা লাথি মেরে সৈকতের কলিজাটা খিলগা‍ঁও এর ড্রেনে ফেলে দেই। মাঝখানে ও ঠিক করলো এমন এক অদ্ভুত প্রাণী পালবে যেটা বেমানান একজন নর্মাল ব্যক্তির চোখে। তখনই ঠিক হলো ব্যাঙ পালবে। খুব কষ্টে ব্যাঙ বালতি করে নিয়ে আসার পর ও যখন সৈকতকে জিজ্ঞাসা করলো নাম কি দিবে
সৈকত হাসিমুখে বলেছে অমল। কারণ আমি নাকি ওর কবিতার অনেক বড় ভক্ত(!!!!!!!???????)

এভাবে চলতে চলতে একদিন বলেই ফেললাম- প্লিজ আমার সাথে দেখা কর।
মনীষা বলল- কেন? নিজেকে আর আটকাতে পারছো না?
– এতদিন ধরে কথা হচ্ছে। তোমার মনে হয় না আমাদের দেখা করা উচিত?
– বিপদে পড়বে দেখা করলে।
আমি অবাক হয়ে বললাম-কিসের বিপদ? তারপরই গলার টোন চেঞ্জ করে বললাম- ভালো হয়েছে। প্লিজ দেখা করো। প্রচন্ড বিলুপ্তকর ঘটনা হলো, ও বলল-আচ্ছা চলো দেখা করি কাল।
আমি বললাম-কাল?
-হ্যা কাল।
ফোন রাখতেই সৌরভ ভাই উঠে বলল- ইয়ে অমল প্রায়ই তো বদনার সাথে কি সব হয়।তোর কি মনে হয় বদনায় ভূত আছে?
ভূত ব্যাপারটা এখন সস্তা হয়ে গেছে। কত রকমের চেয়ে ভূত আসছে দুনিয়ায়। কয়দিন পর দেখব মানুষ গল্প লিখবে ইজ্জতহারা ভূত। সেখানে দেখা যাবে ভূতদের মধ্যে লুইচ্চামি হচ্ছে।

খুব সকালেই আমি তৈরি হতে থাকলাম। হাজার হোক মনীষার সাথে দেখা হচ্ছে আমার।সৌরভ ভাই ওদিকে আবার আমার লাইটার নিয়ে বের হয়ে গেছেন। খুব সুন্দর একটা শার্ট পড়লাম। চুল আচড়াতে গিয়েই একগাদা চুল পড়ে গেল মাথা থেকে। চিন্তিত হলাম না।মানুষের মাথা থেকে ডেইলি ৩০০ চুল পড়ে। আমার হয়ত একটু বেশি। তাতে কি?
বের হতেই দেখলাম আমার এই অন্যতম আনন্দময় দিন নষ্ট করতে ইশারা সাহেব এগিয়ে আসছেন। এসে বললেন- তোমার নামে অশ্লীলতার অভিযোগ আছে।
আমি স্মরণ করার চেষ্টা করলাম জীবনে কবে ওনার সামনে সিগারেট ধরিয়েছি। গত সাতদিনে এমন করিনি। তবে আমি বলার আগেই উনি বলে উঠলেন- তোমার কারণে আমার হোস্টেলের সামনে বদনাওয়ালারা দাঁড়িয়ে গেছে।
আমি বললাম- ছিঃ আংকেল। কি বলছেন এসব।
পরে বুঝলাম মূল ঘটনা। যে বাহাদূর আমার শার্টে ছড়া লিখেছে সেই ছড়ার কালি হাজারবার ধুয়েও যায় নি। তাই বুয়া হার মেনে সেভাবেই বারান্দায় মেলে দিয়েছে। প্রকৃতির কি খেলা, বদনাওয়ালাদের মধ্যে একজনই ছিল অণু শিক্ষিত। তাই সে আরো বদনাওয়ালা ডেকে এনেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ যেহেতু ডিজিটাল তাই সব প্রসেসই ডিজিটাল। তাই বদনার প্রসার কমে যাচ্ছে। তারা যেহেতু দেখেছে এই বাড়িতে বদনার সাধনা করা হয় তারা বিক্রি করেই যাবে। না হয় হুমকি দিচ্ছে জানালা,দরজার দিকে বদনা ছুড়ে মারবে।
আমি বললাম- এটা সৌরভ ভাইয়ের কাজ। যান ওনাকে গিয়ে ধরেন। বলে দৌড় দিয়ে বের হয়ে গেলাম।

খুব আনন্দ হচ্ছে। জীবনে হয়ত এত আনন্দ হয়নি। মনীষাকে দেখব। ভাবতেই ভালো লাগছে। মাঝখানে এক বোরখার দোকানে ঢুকে গেলাম। বললাম- ভাই বোরখার কাপড় কত করে?
সে উদাস গলায় বলল- ভাই এসব পাঞ্জাবির কাপড়। আপনি আগেও এমন ভুল করেছিলেন না?
আমি থতমত খেয়ে বললাম- আপনি তখন বোরখার কাপড় বেচতেন।
উনি নিজেকে চেয়ারে হেলিয়ে দিয়ে বললেন- ঐদিনই ভাই বোরখার ব্যবসা উঠায় দিসি।
কেন আর জানার জন্য দা‍ঁড়ালাম না।
নির্দিষ্ট জায়গায় এসে খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি। আমি দাঁড়ানো ফুটপাতের উপর। খুব ভালো লাগছে। কিন্তু হুট করে কে যেন বলল-ভাই ম্যাচ হবে?
আমার চেয়ে ভালোই লম্বা হবে। তবে ছেলের মাথায় চুল পুরা ছাগলের লোমের মতো ভর্তি।আমি বললাম- না ভাই, ম্যাচ নাই
– তাহলে আমার সাথে একটু আসেন।
এবার আরেকজন। সে আবার চিকন হলেও গায়ে জোর আছে কারণ সে মোটামুটি আমার হাত খামচে ধরেছে। একটা সিগারেট খেতে পারলে ভালো হত। নিরুপায় হয়ে বললাম-চলো।
ওরা ঘাড় আকড়ে ধরেছে। জোর করে নিয়ে যাচ্ছে ফুটপাতের ড্রেনের দিকে। আমি বুঝতে পারছি না ড্রেনে কি আছে। আর যাই হোক দুর্গন্ধ ছাড়া কিছু নেই। ড্রেনের সামনে দা‍ঁড়াতেই ঘটলো যত বিপত্তি। কে যেন প্রবল জোরে ধাক্কা মারলো। ব্যালেন্স রাখতে পারলাম না, ড্রেনের মধ্যে উপোড় হয়ে পড়ে গেলাম। ওরা হাহা করে হাসছে। আমি কোনোমতে মাথাটা সোজা করার চেষ্টা করছি। খেয়াল করলাম শুধু ওরা না, আশেপাশে আরো কয়জন আছে যারা ক্যামেরা নিয়ে দাঁড়ানো।তারাও হাসছে।
উঠে যখন দাড়াচ্ছি তখনই ম্যাসেজ পেলাম একটা। মনীষা লিখেছে- বাসায় চলে যাও।

হোস্টেলের সামনে আসতেই দেখলাম ইশারা সাহেব গজরাতে গজরাতে আমার দিকে আসছেন। আমার মাথা থেকে যে রক্ত পড়ছে সেটা খেয়াল করলেন না। কিছু বলার আগেই আমি বললাম-আমি রাজি।
উনি ভ্রুরু কুচকে বললেন-কিসে?
-আপনার মেয়ের বাসায় কাজ করব। কাল থেকেই।
ইশারা সাহেব খুশি হয়ে গেলেন। বাহ! তুচ্ছ কারণে খুব কম মানুষই খুশি হতে পারে।

রাতেই সব ডিটেইলস জানলাম। মনীষা একটা ফান ফেসবুক পেইজে কাজ করে। তাদের কাজ সারকেসজম করা। তো দুর্ভাগ্যক্রমে আমাকে ওরা সিলেক্ট করেছে। এসবের মূল প্ল্যানার হল আবরার।
ঠিক রাতে সিগারেট খাবার সময় মনীষা ফোন দিল। ধরতেই বলল- এই, রাগ করো না প্লিজ। তোমার ভাগ্য খারাপ ছিল।
– হু।
– তুমি চাইলে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে পারো।
– না কথা হবে আমাদের ।
ফোন রাখতেই ওর নম্বর ব্লক করে দিলাম।
পরে আরও দেখলাম ওদের পেইজে আমার ড্রেনে পড়ে যাওয়ার ভিডিও।এমনকি আমি নাকি বোরখাবিরোধী। সেটার যথেষ্ট প্রমাণও তুলে ধরা হয়েছে।
আজ হুট করে মনে হল ছড়া না। দেয়াল জুড়ে একটা বড় কবিতার লাইন লেখার চেষ্টা করব। সৌরভ ভাই বাথরুমে যেতেই মার্কার দিয়ে দেয়ালে লিখে ফেললাম-

‘‘খরাকালে ফেনার উচ্ছ্বাসে
ভণ্ড হই- আসল পরিচয়,
বিস্বাদ সত্ত্বার শাস্তি- অমৃত অভিশাপ
তবে শান্তি ইটের উপর নিস্তব্ধ পাহাড়ে
আহারের টান-প্রতিদিনের হু’হতাশার আমন্ত্রণে।’’