রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সাংবাদিকতা

মুজিবুল হক

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা যে ক্রাইটেরিয়াগুলো রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রের সবার কনট্রিবিউশন দরকার আছে। এই সবার মাঝে কিন্তু সাংবাদিকরাও আছেন। উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো অংশগ্রহণমূলক কর্মপদ্ধতি। যে যার ক্ষমতার জায়গা থেকে উন্নয়নে অংশ নিবে। কৃষক উৎপাদন দিয়ে, রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো রপ্তানি বাড়িয়ে, রেমিট্যান্স যোদ্ধারা রেমিট্যান্স দিয়ে একইভাবে সাংবাদিকরা সাহায্য করেন তথ্য দিয়ে, রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কাজগুলোর উৎস বের করে, উন্নয়নমুখী উৎসগুলো সবার কাছে পরচিয় করিয়ে দিয়ে, বলতে গেলে দ্বিমুখী কাজের ফলাফল দা‍ঁড় করাতে পারেন সাংবাদিকরা, সামষ্টিক সুফল নিয়ে আসতে পারেন সাংবাদিকরা।

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার কথা ধরি, বিপরীত পক্ষ স্পষ্ট। সাংবাদিকরা দেশের স্বার্থের জন্য শত্রু পক্ষের বিভিন্ন বিভীষিকাময় কাজের চিত্র তুলে এনেছে। বিশ্বকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে শোষকের আসল খোলসের সাথে। নিদেনপক্ষে বর্তমান সময়ের কথা বলি-সাংবাদিকরা বা সংবাদমাধ্যম একটা ত্রিমুখী যুদ্ধে পতিত হয়েছে। সাংবাদিকদের একটা তকমা দেওয়া হয় দালাল বা চাটুকার হিসেবে। সত্য সংবাদ যার বিপক্ষে যায় সেই দোষারোপ শুরু করে। সেল্প সেন্সরশীপ বাদ দিয়ে কাজ করলে সেটা রাষ্ট্রের বিপরীতে চলে যায়। এই জায়গায় ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করা বা রাষ্ট্রের জন্য অকল্যাণকর বিষয়গুলো তুলে আনাটাও রাষ্ট্রবিরোধী কাজ ভাবা হচ্ছে বা শত্রু ভাবা হচ্ছে। যার উদাহরণ হিসেবে ফটো সাংবাদিক কাজলের গুম হওয়া আবার তাকে অনুপ্রবেশকারী বলে মামলা করা, তাকে হাতকড়া পড়ানোকে পর্যালােচনা করতে পারেন। আচ্ছা সাংবাদিক কাজল কোন রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করেছে? নাকি তার জন্য জিডিপির হার ৫% কমে গিয়েছে?

একটু তথ্য দেই, বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) একটি প্রতিবেদন বলছে, চলমান করোনা মহামারির মাঝে বাংলাদেশে অন্তত আট জন সংবাদকর্মী পুলিশ ও রাজনৈতিক কর্মীদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন আইনে মামলা হয়েছে অন্তত সাত জনের বিরুদ্ধে, আর ডিটেনশনে দেওয়া হয়েছে দুই জনকে।

অথচ বিশ্বের বড় বড় মানবাধিকার সংগঠন ও জায়ান্ট সংবাদ সংস্থাগুলো বলছে এই মহামারির সময়ে ফ্রন্ট লাইনের অন্যান্য যোদ্ধাদের মধ্যে সাংবাদিকরাও আছেন। তাহলে এই যোদ্ধাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ অমানবিকতার চিত্র নয় কি? রাষ্ট্র আমার, রাষ্ট্রের পাহারাদারদের আমিও একজন। এর ভালাে খারাপ দেখভাল করার দ্বায়িত্ব আমারও সাংবিধানিক দ্বায়িত্ব, মানবিক দ্বায়িত্ব। তবে আমার সাথে মানবিক আচরণের বিপরীতে অমানবিক আচরণ কেন? কাজলের সাথে অমানবিক আচরণ কেন? এটা কি স্থানীয় প্রশাসনের অজ্ঞতা!
সে যাই হোক। সাংবাদিক কাজলের নিখোঁজ ও গ্রেফত‍ারের ইতিবৃত্ত জানানো হোক সবার উদ্দেশে।

মুজিবুল হক, তরুণ গণমাধ্যমকর্মী। কো-আর্ডিনেটর- পরিচয়।

আপনার মতামত দিন