রাহাত রাব্বানীর একগুচ্ছ কবিতা

হৃদয় কেবিন

তোমাকে দিলাম— ছায়া সুনিবিড় একটি গ্রাম

বিশাল বটবৃক্ষ, তার শীতল পরশ— তাও দিলাম।

এই রাস্তা— তোমাকে দিলাম,

দু’পাশে সোনালি ধানের ক্ষেত— তোমার।

তোমাকে দিলাম— প্রিয় পুকুরপাড়।

একগোছা কদম ফুল— তোমাকে দিলাম,

দিলাম— তিনটি গোলাপ;

রক্তজবা— তাও তোমার।

তোমাকে দিলাম— সবুজপাতা, দূর্বাঘাস।

শরতের কাশফুল, শুভ্র মেঘের ভেলা— তোমার জন্য।

স্বর্ণলতা, জুঁই, শিমুল, হাস্নাহেনার ঘান, সমুদ্রের গর্জন,—

তোমাকে দিলাম, তোমাকেই দিলাম,— সব।

তোমার জন্যই হৃদয় কেবিন। আরামপ্রিয়, —

আরামে থেকো। আয়েশে থেকো খুউউউব।

 

অন্যরকম গল্প

আমাদের গল্পটা হতে পারতো—

শীতলক্ষ্যা নদীর মতো, শান্ত। হতে পারতো—

গোলাপের বাগান, স্নিগ্ধ কোমল। অথবা—

শরতের মেঘ, কাশফুলের নীরব মিছিল।

আমাদের গল্পটা হতে পারতো—

বসন্তের কোকিলের মতোন, মধুর। অনেকটা—

বঙ্গোপসাগরের মতো, গুরুগম্ভীর। গল্পটা হতে পারতো—

হেমন্তের মাঠজুড়ে যুবতী ফসলের উল্লাস যেমন!

কিছুটা পরিমার্জিত নিয়মে আমাদের গল্পটা হতে পারতো—

রাতের কাঁধে হাত রেখে রবীন্দ্রসঙ্গীতের মতো;

শিমুল মুস্তাফার ভরাট কণ্ঠে আবৃত্তির মতো। নয়তো —

নিয়ন আলোর মৃদু হাসির মতো। হতে পারতো—

মধ্যরাতে নৃত্যরত শিশির জলের মতো, শুদ্ধ।

আমাদের গল্পটা এখন অনেক বয়স্ক, পরিপক্ক।

পাল্টে গ্যাছে গল্পের আবহ।— স্থান। কাল। চরিত্র।

ফুটন্ত জলে লিকার মিশে যেমন পাল্টে জলের রঙ।

 

শূণ্যতার বিলাপ

বিচ্ছেদী রাতগুলো ক্রমশ দীর্ঘ হতে থাকে, দীর্ঘ হয়। বিশাল—

শহরের দুই প্রান্তে থাকা দু’টি ফুল,—

ঘুম হারিয়ে; বিলাপ করে শূণ্যতার।

 

নীলখাম

এই যে এখন আমার ঘরে জোছনা নামে,

আমার কাছে ভাল্লাগেনা। পুকুরে সবুজের সাঁতার, কচুরিপানা;

ভাল্লাগেনা।

কৃষ্ণচূড়া বিষাক্ত লাগে,কবিতারাও স্বাদহীন

সুনীল আকাশ; দলবেঁধে পাখির বাড়ি ফেরা বিশ্রী লাগে

বেলিফুলের ঘ্রাণ বড্ড সেকেলে; এখন আমার ―

ভাল্লাগেনা। আমার কিছুই ভাল্লাগেনা।

এমনও তো অনেকদিন গেছে, ―

তোমার ফোনে মনের অসুখ দূর হবার

এখন আমার ফোনের শব্দ ভাল্লাগেনা।

মনের মাঝে ছোট্ট বাড়ি, টিনের চালা, বৃষ্টির নাচ;

ভাল্লাগেনা। তোমার চুলের ভেজা গন্ধ, এখন আমার―

ভাল্লাগেনা। আমার কিছুই ভাল্লাগেনা।

রাতের নীরবতা, ভোরের সজীবতা, দুপুরের ক্লান্তি;

ভাল্লাগেনা। বিকালের আড্ডা ভাল্লাগেনা।

সন্ধ্যার চা ভাল্লাগেনা। আমার কিছুই ভাল্লাগেনা।

আমার ভীষণ একলা লাগে। কেমন জানি উদাস লাগে।

 

বিস্মৃত পঞ্জিকা

কেমন আছে ছোট্ট সেই ক্যাফেটেরিয়া, ১৫ নং রোড?

কেমন আছে গোলাপের লাল, দুপুরের রোদ?

কেমন আছে এলো চুল, বারান্দার গ্রীল?

কেমন আছে চড়ুই যুগল, শঙ্খচিল?

কেমন আছে চায়ের কাপ, বাগানবিলাস?

কেমন আছে খেলার মাঠ, সন্ধ্যার আকাশ?

কেমন আছে পুরানো কলম, রাতজাগা সময়?

কেমন আছো প্রিয় ডাকনাম? —আমার বড্ড দুঃসময়।

 

শেষ বিবৃতি

যতদূর মনের বিস্তৃতি,

ততদূর ভালো থাকা হয় যেন।