শিক্ষার্থীদের সোচ্চার হতে হবে, ভয় না পেয়ে মুখ খুলতে হবে

‘শিক্ষক’ শব্দটির চরম অবমাননা করছেন তারা
ইস্রাফিল আকন্দ রুদ্র

শিক্ষক দেশ ও জাতি গড়ার কারিগর। কিন্তু কতিপয় দুষ্ট প্রকৃতির শিক্ষকদের কারণে পুরো শিক্ষক সমাজের সম্মানহানি ঘটছে অহরহ। শিক্ষক এর সংজ্ঞা কী? শিক্ষাদানের মহান ব্রত যার কাজ তাকেই শিক্ষক বলা হয়। অবশ্যই সুশিক্ষা। শিক্ষক হচ্ছে রক্ষক, আর সে রক্ষক যদি ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তখন দেশ ও জাতি কোথায় পতিত হবে?
কয়দিন পরপরই গণমাধ্যমে ভেসে আসে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকদের মাধ্যমে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি ও হয়রানির খবর। এমন খবর আমাদেরকে ব্যাপকভাবে মর্মাহত করে। আমাদেরকে চিন্তায় ফেলে দেয় আমাদের বোন কিম্বা মেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে। আমরা যেখানে নিরাপদ আশ্রয় মনে আমাদের বোন বা মেয়েদের পাঠাচ্ছি পড়ালেখা করে মানুষ হওয়ার জন্য, সেখানেই সে নির্যাতিত হচ্ছে না তো!

২.
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বরিশাল জেলার উজিরপুর সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হকের একটি অপকর্মের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- এক ছাত্রীকে আদর করছে, গাল ম্যাসেজ করে দিচ্ছে। আরো মেয়ে শিক্ষার্থী ছিল, তারা কিছু বলছে না। আর যে মেয়েটির সাথে এমন হচ্ছে তার মুখে বিরক্তির ছাপটা পর্যন্ত দেখতে পাইনি। বেশ হাসিখুশি। প্রথমত শিক্ষকের অপরাধ মস্ত বড়। মেয়েটির উচিত কী ছিল, নিজেকে সঁপে দেওয়া না প্রতিবাদ করা ?
পত্রিকায় প্রকাশিত শিরোনাম গুলোর খবর জানি, এছাড়া প্রতিনিয়ত কী সব ঘটছে তার খোঁজখবর আমরা কেউ রাখি না। কোনো মেয়ে লজ্জায় বলতেও পারে না কাউকে। আর এমন শিক্ষক এসব করে যা কাউকে বললে বিশ্বাস করতে অপারগ। বাসায়ও বললে কেউ বিশ্বাস করবে না! এমনও কাহিনী আছে, ছাত্রীকে নিজের মেয়ের চোখে দেখে সম্পর্কের (অহেতুক) নাম দেয় বাবা-মেয়ে, এরপরের কাহিনী কী? সন্তানকে যেমন বাবা স্নেহ করে সেরকম সুযোগ নিয়ে লালসা মেটায় শিক্ষক নামধারী কুলাঙ্গাররা।ছাত্রীকে কোলে তুলে নেয়, হাত ধরে, জড়িয়ে ধরে, আরও কত কী! শিক্ষক শব্দটির চরম অবমাননা করছেন তারা।

৩.
ইংরেজিতে কথিত আছে- ‘When money is lost, nothing is lost. When health is lost, something is lost. When character is lost, everything is lost.’ এ কথা থেকে স্পষ্ট যে অর্থ সম্পদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চরিত্র। শিক্ষকের কাজ শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন করার কথা অথচ তাদের চরিত্র বিচিত্র। একটা সময় শিক্ষক পেশাটি ছিল সর্বোচ্চ মর্যাদার।অথচ আজ কুলাঙ্গারদের জন্য প্রকৃত শিক্ষক পাচ্ছে না তার যোগ্য মর্যাদা।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নজরদারি রাখতে হবে, শিক্ষার্থীদের এসব সমস্যা হচ্ছে কী না কথা বলতে হবে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের, আর যদি প্রধান শিক্ষক এরকম করেন তাহলে কী বলার! শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করতে হবে প্রথমত; প্রকৃত মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। বিদ্যার চেয়ে চরিত্র উত্তম। কেউ বিশ্বাস করবে না, উল্টো চাপ প্রয়োগ করবে, প্রিয় শিক্ষক ওনি- প্লিজ এসব ভাববেন না। আপনার সম্মান সর্বোচ্চ মর্যাদায় রাখুন। হেফাজত করুন নিজেকে, বাঁচান নিজের ভূষণ। কোনো শিক্ষক যদি এইরকম কর্মে লিপ্ত থাকে তার শাস্তির ব্যবস্থা করুন তৎক্ষণাৎ। আমাদের সমাজে এখনও অনেক সৎ ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক আছেন। যারা প্রতিনিয়ত অপমান বোধ করছেন কু-শিক্ষকদের অনৈতিক কার্যকলাপে। এখনও সময় আছে পরিবর্তন করার। শিক্ষকতা পেশাকে কেউ যেন কলুষিত করতে না পারে সেদিকে সচেতন নাগরিকের দৃষ্টি দেয়া উচিত। শিক্ষক শুধু মানুষ গড়ার কারিগরই নয় সমাজ গড়ার কারিগরও।
শিক্ষার্থীরা মাতা-পিতা ও পরিবারের আদর্শ যতখানি না অনুসরণ করে তার থেকেও বেশী অনুসরণ করে শিক্ষককে। অবচেতন মনেই তাদের মাঝে এ মানসিকতা গড়ে ওঠে। ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন শিক্ষক কোন কিছু না বললেও শিক্ষার্থীদের মাঝে তার চারিত্রিক ও ব্যবহারিক প্রভাব সঞ্চারিত হয়। সেক্ষেত্রে শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক গুণাবলী ও আচার-আচরণ লক্ষ্য রাখলে এবং প্রয়োজনীয় সদোপদেশ দিলে শিক্ষার্থীদের চরিত্র ও মনমানসিকতা আরও সুন্দরভাবে গড়ে ওঠা স্বাভাবিক। আমরা অসুস্থ মস্তিষ্কের মানুষদের এ মহান পেশায় নিয়োজিত রাখি। মনে রাখা উচিত বিদ্যান দুর্জন হলেও পরিত্যাজ্য। শিক্ষার্থীদের সোচ্চার হতে হবে, ভয় না পেয়ে মুখ খুলতে হবে।

আপনার মতামত দিন