সব যেন অপলক চাহনীতে স্মৃতি হয়ে আসে

স্মৃতি বিয়োগ
জয়া আচার্য

ঘুমন্ত বিকেলে অপলক চাহনী,
কি ভাবিতেছ কবি মনে তুমি
কবি হায় শুনে কেমনে
আনমনা হয়ে শুধু চেয়ে রয় কালক্রমে

ছোটবেলার স্মৃতিগুলি যেন নাড়া দিয়ে ওঠে
কবিরই হৃদয়ে

নদীর তীরে গুলতি দিয়ে পাখির বাসা ভাঙা
বুড়িচ্চু, গোল্লাছুট, কুমিরডাঙা আরও কত কী

খেলতে গিয়ে নদীতে ঝাপ

সব যেন অপলক চাহনীতে স্মৃতি হয়ে আসে

ভাসিয়ে নিয়ে যায় কবিকে এক অপরূপ পৃথিবীতে

নৌকায় করে শাপলা তোলা
কোকিলের ডাক শুনে দূরে ঢিল

ছোড়া,রাশদদের আমবাগানে আমচুরি

বালাই বালাই ভারি মজার সে
আম,ছোট জাল দিয়ে মাছ শিকার

স্কুলের পথে বন্ধুকে ল্যাঙ
মাস্টারের কাছে কান ধরে উঠ বস

মাস্টারের বাড়িতে বসন্তের ফুল চুরি
হায় পাবে কোথায় সেই দিনগুলি
সেই খেলার মাঠের উত্তেজনা
বসন্তের ফুল সুবাস মাখা
লুকোচুরি ফুল দিয়ে নবসজ্জায়সজিত করা ,
হায় সেই অবুঝ ছোট বেলা অদ্ভুত ছিলে তুমি
বড় হলে দায়িত্বের এত বেড়াজাল
জানতাম যদি আগে
চাইতাম না হতে বড়
সে বেড়াজাল করে স্বপ্নকে করে চুরমার

সে বেড়াজাল ইচ্ছের হিমালয়কে করে মরুভূমিতে পরিণত
তাইতো কবির আজও পড়ে মনে

সেই সতেজ কচি পাতার দিনের কথা

যেদিনে সূর্যের হাসি তৃপ্তভরা ছিল

যে দিনে প্রিয় মানুষগুলো পাশে ছিল
হায় কবি আজ সম্মানের উচ্চ সিংহাসনে
তবুও তার আজও সেই স্মৃতি গুলো টানে
ফিরে যেতে ইচ্ছে হয় সেই বাধনহীন স্থানে

আজ প্রিয়জনকে কবির বড্ড বেশি মনে পড়ে
কিন্তু কবি তুমি নিরুপায় উচ্চসিংহাসনের বেড়াজালে

আপনার মতামত দিন