সাক্ষাৎকার: তরুণদের বেশি করে বিশ্বসাহিত্য পড়তে হবে

বাংলার প্রখ্যাতকবি, সাহসী লেখক,করোনা যোদ্ধা এবং দৈনিক ইনকিলাবের সাহিত্য সম্পাদক ফাহিম ফিরোজ।২০০৩ সালে প্রকাশিত ‘ভাতঘুম’ কাব্যগ্রন্থটির জন্য পেয়েছেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা।ঘরবন্দী সময়ে অনলাইনে— পরিচয়ের মুখোমুখি হয়েছেন কবি ফাহিম ফিরোজ । সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জুবায়ের দুখু

জুবায়ের দুখু: স্যার, কেমন আছেন?আপনার শরীর স্বাস্থ্য কেমন আছে?

ফাহিম ফিরোজ: মোটামুটি

জুবায়ের দুখু: ঘর বন্দী সময়ে লেখালেখি কেমন চলছে আপনার?

ফাহিম ফিরোজ: লকডাউনে লেখা চলছে , মন ভাঙছে…

জুবায়ের দুখু: আপনার প্রিয় লেখক কে?কিংবা কার লেখায় অনুপ্রাণিত হয়ে লেখালেখিতে আসেন আপনি ?

ফাহিম ফিরোজ: মাইকেল,কায়কোবাদ, শামসুর রাহমান,নির্মলেন্দু গুণ…

জুবায়ের দুখু: আশি অথবা নব্বই দশকের বাংলা সাহিত্যের লেখালেখি সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন?

ফাহিম ফিরোজ: আশি নিস্ফফলা দশক আমাদের।নব্বই সফল।তিরিশ দশকের পর। ১৯৯০ সালের শুরুতে পোস্ট মডার্ন চেতনা বা আন্দোলন পূর্ববতী সমস্ত চিন্তাকে ভাঙনের মুখে ঠেলে দেয়।ষাট, সত্তরে বিট,হ্যাংরির দাপট ছিল।চিৎকার, প্রতিবাদ, পুনরাবৃত্তি ছিল।

জুবায়ের দুখু: বর্তমান বাংলা সাহিত্যে কোন পথে চলছে বলে আপনি মনে করেন?

ফাহিম ফিরোজ: বহুদিকময়।কিন্তু বিশ্বসাহিত্যের লেটেস্ট ধারা যারা ফলো করবে, তারাই ভালো করবে।অনেকে কোন কালে বিশ্ব সাহিত্য পড়েছে, তার উপর বসে আছে।বিশ্বে করোনা নিয়ে চমৎকার চমৎকার কবিতা লেখা হচ্ছে। সেদিনও পড়লাম আর ভাবলাম।আমাদের কজন কবি এসব পড়ে!

জুবায়ের দুখু: শুনেছি আপনি বাংলা সাহিত্যের হীরা খন্ড আল মাহমুদের খুব কাছ থেকে স্নেহ ও উপদেশ পেয়েছেন, লেখালেখি বিষয়ে যে উপদেশ গুলো পেয়েছেন যদি বলতেন?

ফাহিম ফিরোজ: কবি আল মাহমুদ আমাকে সমকালীন সব কবিদের থেকে কেন জানি ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখতেন।উপদেশ স্বপ্নে দিয়েছেন। আর কিছু বলতে চাইনা।

জুবায়ের দুখু: অনেকেই বলছে বর্তমান সময়ে তরুণরা খুব ভালো করছে, আবার কেউ কেউ বলছে তরুণদের লেখায় প্রচুর শব্দচয়ন হচ্ছে না, এ বিষয়ে আপনি কি বলতে চান?

ফাহিম ফিরোজ: চেষ্টা করলেই ভালো লেখা যাবেনা।মেধাটাই বড়! মূল কথা এসব ঐশ্বরিক বিষয়। জোরের নয়।
প্ল্যান করে কখনও লেখা যায় না, বেঁচে থাকলে আসতে পারে।

জুবায়ের দুখু: শব্দচয়ন ও নতুন শব্দ সৃষ্টিতে আপনি কতটুকু গুরুত্ব দেন?

ফাহিম ফিরোজ: নতুন শব্দ নির্মান কে বেশি গুরুত্ব দেই।

জুবায়ের দুখু: সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে আপনি অনেক তরুণ কবির লেখা পড়েছেন, আপনার কি মনে হয়েছে তাদের লেখা শক্তিশালী এবং নতুনত্ব আছে?

ফাহিম ফিরোজ: তরুণের বয়স সীমা কি?তিরিশ পূর্ব বা তিরিশ পেরোনা কেউ কেউ সম্ভাবনায়।আবার হারিয়েও যেতে পারে।

জুবায়ের দুখু: আপনি কিভাবে সাহিত্য আসেন এবং প্রথম কোন লেখা দিয়ে সাহিত্য যাত্রা শুরু করেন?

ফাহিম ফিরোজ: ওয়ানে ভর্তির আগে আঁকা শুর।অষ্টমে শেষ। ক্রিকেটে মনযোগ। নবমে কবিতা শুরু।

জুবায়ের দুখু: আপনার লেখা প্রথম কবে পত্রিকায় আসে? এবং কোন পত্রিকায়?

ফাহিম ফিরোজ: আমার এক মেয়ে বন্ধু স্কুল জীবনে আমার কবিতা লেখার কথা স্যারকে বলে।তাড়াতাড়ি নামে বেনাম দুটি লেখা ছাপে একটি সংলকন। পরে ঢাকার ইত্তেফাক সহ নানা কাগজে।

জুবায়ের দুখু: আপনার প্রথম বই কবে বের হয়? এবং তার নাম কি?

ফাহিম ফিরোজ: ‘ভাতঘুম‘।২০০৩ সালে অনন্যা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

জুবায়ের দুখু: আপনার প্রথম বই ‘ভাতঘুম’ পাঠক মহলে অনেক সুনাম কুড়িয়েছে ।লেখক হিসেবে এটা আপনার কেমন প্রাপ্য বলে মনে করেন আপনি?

ফাহিম ফিরোজ: ‘ভাতঘুম’ আমাকে একটানে দেশ থেকে দেশের বাইরে নিয়ে গেছে। সামান্য পরিমান আলোচনাও হয়নি।বহু আলোচনা অপ্রকাশিত।এখনও হবে।

জুবায়ের দুখু: বাংলা সাহিত্যের অন্যসব কবিদের থেকে আপনার শব্দচয়ন আলাদা কেন?

ফাহিম ফিরোজ: নতুন শব্দ নির্মান একজন কবির বড় শক্তি। আরও কিছু আড়ালের বিষয় আছে।

জুবায়ের দুখু: তরুণদের ভালো লেখালেখি নিয়ে আপনার পরামর্শ কী?

ফাহিম ফিরোজ: তরুণদের বেশি করে বিশ্ব সাহিত্য পড়তে হবে।

জুবায়ের দুখু: আপনাকে আপনার শৈশব ও কিশোর সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়নি যদি বলতেন আপনার ফেলে আসা ছোটকালের কথা?

ফাহিম ফিরোজ: বাল্য,শৈশব, কৈশোর চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কাটে।জনম ও শিশু কাল লৌহজং,মুন্সীগঞ্জ জেলা।

জুবায়ের দুখু: আপনার এমন একটি স্মৃতিচারণ ঘটনা বলবেন যা আজও কেউ জানেনি।

ফাহিম ফিরোজ: সব স্মৃতি বলা যায় না।ব্রেসলেট আত্মকথন ফেসবুকে চলছে। বাল্য,শৈশব, কৈশোর নিয়ে ‘ব্রেসলেট ‘ আছে। ছোটবেলা হাইস্কুল জীবনও।
শিশুবেলায় পাক এক পাক আর্মির অব্যর্থ গুলি থেকে পিতাকে ও নিজেকে বাঁচাই। বয়স তখন ৯/১০।

জুবায়ের দুখু: ধন্যবাদ স্যার, শ্রদ্ধা নিবেন।

ফাহিম ফিরোজ: তোমাকে ভালোবাসা।

আপনার মতামত দিন