সাজিদুর রহমানের একগুচ্ছ কবিতা

সাজিদুর রহমানের একগুচ্ছ কবিতা:

তুমি যখন চলে যাচ্ছিলে তখনকার চতুর্দিক যেমন ছিলো….

মাত্র রুহ থেকে খুলে ফেলেছি অর্গান–স্পট হচ্ছে
সিগারেট,ছাইপাশ তলাচ্ছে সিড়িঘর–
আমার ত্যালত্যালে মুখে ফুটে উঠছে কারফিউ!

করুণায় পাত্রে ছেয়ে আছে মর্গ,ফ্যানের বাতাসে
চিপড়াচ্ছে কার্পাস তুলো। বুকের বাঁ ধারে খুড়ছে
ড্রিল,হাতে নাচছে টলটলে ঘাম।

এমুহূর্তে চারিদিকে কঠোরতম শান্ত নিশ্চুপ।
সমালোচনার মশা খাচ্ছে কানের লতি।তোমার
ফাস্টফুডে হাটছে কেন্নো। সদরদরজায়
হৃদপিন্ড ফুটো করছে উঁই।

সপ্তরিপু টলছে মদের দোকানটার সামনে।পঙ্গু পাখি,
সাতরাচ্ছে হাঁপানি রোগ। বস্তিতে জ্বলছে মশাল মিছিল।
তুমি হাটছো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে, পিরিয়ডের ব্যাথা নেই।

লগডাউনে ভুগছে শিশু,কোয়ারান্টাইনে বসেছে
তাসের শহর। পরস্ত্রীর বুক শুকিয়ে গেছে,দুধ পাচ্ছে না
নবজাতক। রিফিউজি ক্যাম্পে জমছে
নোনা রিকশা,বেয়ারিং গাড়ি,সাপ্তাহিক হাট বাজার!

গোলাপ ফুলগুলো শুকনো,মাছগুলোর পেটে লিটার
লিটার ফরমালিন। চায়ের কাঁপে রেসকোর্স গান।
টলছে নিউইয়র্ক। লাশের কফিনে সাড়ি সারি ইতালি।

একটা দড়ি শুকাচ্ছে মগডালে। আঁশটে পঁচা গন্ধ গিলছে পেঙ্গুইন এবং আমি নির্মল মুখে গিলছি জলরং।

অস্তিত্বের অন্তিম সূর্যাস্ত পোয়াচ্ছে আগুন। অন্ধকার নামে
মাটির শিকড়ে।তুমি হেঁটে গেলে সোজা। পেছনে দেখলে
কবর!

সারি সারি জং ধরা মানুষফুল ফুটেছে রাস্তার দুইধারে!

একটা সময়
তুমি কোত্থাও নেই, কোনো মরিচিকার তৃষ্ণার মতো, তুমি কোত্থাও নেই!

অসাম্প্রদায়িক

হত্যাযজ্ঞের পর হাত রক্ত মাখবো বলে
পিঠে চাপাতি গুজেছি।

মানুষ খুজি!চোখে ধর্ম লেখা থাকেনা
মুসলিমের দাড়ি, মাথায় টুপি থাকে
হিন্দুর গলায় তজবি,মাথায় টিকি,ধুতি
খ্রিষ্টানের ক্রুশ আর বৌদ্ধদের রঙিন ঘেরুয়া দেখেই চিনে নেওয়া যায়

চিহ্ন দেখে দেখেই তাদের রগ বিচ্ছিন্ন করে ধূলোয় রেখে দেই
শকুন আসবে!
আমি ধারালো চাপাতিতে বৃদ্ধাঙুলে মেপে নেই
ধার কমেছে কিনা!সামান্য রক্ত গায়ে লেপে দেই খন্ডিত দেহে!

হত্যাযজ্ঞের পরে তাদের দেহে লিখে দেই -ধর্ম
শকুন-মাংস খাওয়ার পূর্বে ক্ষুধার্থ দৃষ্টিতে আমাকে প্রশ্ন করলে
আমি উত্তরে বলি
“আমার জন্মের সময় ডাস্টবিনে ছিলাম”
মৃত্যুর সময় নদীতে?

তাহলে? আমার কবর,অস্থি, কফিন সব কোথায়?

উত্তর গিঁলে শকুন পরমানন্দে মাংস খেতে শুরু করলো

 

প্রেমিকার প্রতি বিচ্ছেদ চিঠি

হরিণী,

সুখ!এবং ভালোবাসা উভয় তোমার জন্য! জগতে মানুষ আসে, দেখতে থাকে,খুঁজতে থাকে,একটি ভালোবাসার স্তম্ভ। সবাই পায়না, কেউ কেউ পায়, কেউ কেউ নিজেই হত্যা করে বসে মাথার ভুলে,কেউ কেউ ছড়িয়ে ছিটিয়ে নষ্ট করে! বরং আমাদের রক্তে নতুন একটি পৃথিবীর দরকার।ভালোবাসার কথা বললেই–হাতের কাছে গোলাপ জন্মাবে,প্রেমের কথা বললে পাখিরা গেয়ে উঠবে ব্যাথোফেন,তোমাকে বুকে টেনে নিলে মার্সিভিউ নক্ষত্র আসবে পায়ের তলায় নগ্ন শরীরে!
অথবা হঠাৎ করেই পূর্নিমায় ভিজতে চাইলে চাঁদ নয়-তারারা আলো দেবে,মেঘেরা দেবে আড়াল!

কোনো এক স্বতন্ত্র মিলনলগ্নে আমাদের তথাকথিত পৃথিবীর বদলে জন্ম নেবে,একান্ত ডাহুক!

ভালোবাসলে ক্ষতি কি?

তোমাকে ভালোবেসে–মৃতপ্রায় একটি কবুতর!

হ্যালুসিনেশন

কতক্ষণ ধরে একটা মেয়েকে পর্যবেক্ষণ করে চলেছি
চেনা হয় মানুষ,গাছ
গন্ধ, শরীর হতে পারে! জলাতঙ্ক নয়!
প্রেম? শাড়ির গন্ধ আসেনা সবসময়-
শাড়ি এলো কোথা থেকে?
শালোয়ার কামিজ, গলায় ঝুলানো ওড়না!
চোখের কি হলো আজকাল!এ যে আমার পাশের বাড়ির টুকটুকে সাজুগুজু করা উচ্ছন্নে যাওয়া মেয়ে!
কিছুতেই হতে পারে না চেনা কেউ-অচেনা একজন!
সম্ভব হতে পারে না! দূরত্ব তো কম নই আড়াইশো কিলোমিটার –
একটা নদী
জমজ বোন হতে পারে!শুনেছি তার মা সে জম্মাবার পরের থেকে নিরুদ্দেশ!
জমজ ও নয়!
চেনাও নয়!
চোখে আজকাল জমজ নারী দেখি মাঝেমধ্যে!
জোড়া গাছপালা! জোড়া পানি!
হতে পারে-
স্বর্গ নরকের দুয়ারে এসে থমকে দাড়িয়ে থাকা মানুষই এইসকল দেখতে পারে!

আততায়ী 

আমার তো ব্যক্তিগত কোনো পাঁজর ছিলো না!
তাহলে এ শহর থেকে আমার নাড়ী কেটে পালিয়ে গেল কারা?

অন্তিম সুখ

শুধুমাত্র তুমি আমাকে খুন করার পরেও বলে উঠি-
“ছুরিটা ঠিকঠাক মতো পাঁজরে বসেনি!”

 

“আমার মৃত্যুতে শোক করবে না তোমার নাকফুল-
আমি প্রবল তৃষ্ণায় হাঁপিয়ে উঠি-
তোমাকে আর কখনো ছোঁয়া হবে না!”

 

আপনার মতামত দিন