ঋণ এতটাই জঘন্য হয় !

ঋণ
সৌরভ হাসান

সোমবার সন্ধ্যায় তোমার গায়ে হলুদ।
যদিও এটা মেয়েদের অনুষ্ঠান, তবুও
বন্ধুর অনুরোধে যেতে হলো।
আমি তোমার গালে হলুদ মাখিয়ে দিচ্ছি
যেই হলুদ আনা হয়েছে সুদূর খাগড়াছড়ি থেকে।
আমি দেখতে পাই
তোমার চোখে জমা হয়েছে রাজ্যের ঘৃণা
আমায় সার্থপর, লোভী বলে গালি দিচ্ছো তুমি।

বুধবার রাতে তোমার বিয়ে হয়ে গেল।
দামী শাড়ি গায়ে জড়িয়ে চলে যাচ্ছো শশুড়বাড়ি
তোমার খুব ঘুম পাচ্ছে
যেন দীর্ঘদিন ঘুমাওনি তুমি
তুমি ঢলে পড়ে যাচ্ছো তোমার স্বামীর শরীরের দিকে,
তোমার স্বামী মৃদু হাসে।
বরযাত্রীর মাইক্রোবাসে আমিও ছিলাম
ছিলো আরও অনেকেই
তারা কেউ জানে না তুমি আমার প্রেমিকা,
তোমার ঠোঁটে চুমু খেয়েছিলাম আমি,
তোমার সাথে কাটিয়েছিলাম হাজারটা বিকেল।

বাসরঘরে তুমি স্বামীর কাছে জানতে চাও
তার পাশে বসে থাকা ছেলেটি কে ছিলো-
সে জানায় সবকিছু
আমি তার বন্ধু,
আমার গল্প শোনায় তোমাকে,
সে আরও বলে- আমি একজন কবি।
তুমি তখন গভীর ভাবনার জগতে ঢুকে যাও
মনে করার চেষ্টা করো, আমি কোনোদিন
তোমাকে কবিতা লিখে দিয়েছিলাম কি-না!
তুমি মনে করতে পারো না
তোমার মেজাজ খারাপ হয়।
তখন তোমার স্বামী তোমার দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করে,
তুমি সাড়া দিবে কি-না ভাবছো।
বিয়েবাড়ির ছাদে বসে থাকি আমি
সঙ্গে আরও বন্ধুবান্ধব, মদের বোতল, সিগারেট।
আমি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি আমার বন্ধুর প্রতি-
যার কারণে একটা কবিতা লিখতে পেরেছিলাম আমি
সেই ঋণ শোধ করার কোনো মাধ্যম খুঁজে পাইনি,
তাই যেদিন তোমার ছবি দেখিয়ে বলেছিলো-
‘মেয়েটাকে বিয়ে করবো, অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ’
সেদিন তার হাসিমুখ দেখে বলতে পারিনি-
তুমি আমার প্রেমিকা। ঋণ এতটাই জঘন্য হয়।

আপনার মতামত দিন