স্মৃতিচারণ: স্যার আমি

হুমায়ূন কবির

এক সময় আমি চার পাঁচ জায়গায় টিউশনি করাতাম। আমি বেশির ভাগ ছোট বাচ্চাদের পড়াতাম। অবশ্য আমি ব্যক্তিগত ভাবে বাচ্চাদের খুব পছন্দ করি। ছোট বাচ্চাদের পড়াতে আমি ভীষন আনন্দ পাই। পড়াতে গিয়ে তাদের কাছ থেকে অনেক মজার মজার ঘটনা আমার মনের মধ্যে গেঁথে রেখেছি। যা মনে পড়লে নিজের অজান্তেই হেসে উঠি। যাক এবার দুই-একটি মজার ঘটনা বলছি-আমার এক ছাত্র ছিল,নাম তার ফয়সাল। একদিন তাকে লিখতে দিয়েছিলাম বাংলা বার মাসের নাম। সে যা লিখেছিল তা হলো-বেসাক,জস্ট,আচার,­সাবান,ভাদর,আশেন, কাতিগ,অগাহন,পুশ,মাগ ,ফাগলুন,চুত। আরেক ছাত্রী ছিল,তাকে সাতবারের নাম লিখতে বলেছিলাম। সে লিখেছিল-সনিবার,রবুবা­র,সমবার,ময়গলবার,বধুব­ার,বিয়পতিবার,শকুবার,­ লাকী। সাতবারের নাম লিখতে গিয়ে নিজের নামটা যোগ করে সে হয়তো আটবারের নাম লিখেছিল। মাসুদ নামে একজন ছাত্র ছিল। তাকে প্রশ্ন করেছিলাম – বাবার বাবাকে কি বলে? উত্তরে বলেছিল-চাঁনমিয়া ঢালী। পরে জানতে পেরেছি তার দাদার নাম চাঁনমিয়া ঢালী।আরেক ছাত্রের নাম ছিল হাবিব।তাকে মাছের নাম লিখতে বলেছিলাম ৫টি। সে লিখেছিল-পোনামাছ, টেম্পুমাছ,গুড়ামাছ,জি­য়লমাছ,বুইত্তামাছ। অবশ্য সে বানানে কোন ভুল করেনি। অন্য এক ছাত্রী ছিল জেসমিন নামে। তাকে বলেছিলাম ৫টি পশুর নাম লিখতে।সে লিখেছিল ৫টি সাপের নাম। লেখার পর সে আমাকে প্রশ্ন করেছিল , স্যার, আমাদের জাতীয় সাপের নাম কি? অন্য এক জায়গায় ক্লাশ সেভেনের এক ছাত্র পড়াতাম। তাকে একদিন পড়া দিয়েছিলাম-লিঙ্গ কাকে বলে? কত প্রকার ও কিকি? পরের দিন আনিস নামের সেই ছাত্রকে পড়া জিজ্ঞাসা করতে সে বলল-স্যার আম্মু ঘরে ছিল , তাই লজ্জায় এ পড়াটা পড়িনি স্যার। এটা জানি কেমন কেমন লাগে স্যার। মোতালেব নামের আরেক ছাত্রের কথা বলি। পড়াতে বসার কিছুক্ষণ পরেই প্রতিদিন তার প্রশ্রাব ধরে। আমি বিরক্ত হয়ে একদিন তাকে যেতে দেইনি।আমি পড়াচ্ছি। একটু পরে আমার পায়ে গরম পানি পড়তে লাগলো। কিছু বলার আগেই সে বলল-স্যার আমি দিছি। তার কথায় রাগ করা তো দূরের কথা। অনেক কষ্টে হাসি থামিয়েছি। আস্তে আস্তে সব ছাত্র-ছাত্রীই ভুলের পরিমানটা একটু কম করে,শুদ্ধটাই লিখে। তাই মজার ঘটনাও তেমন আর ঘটেনি।

আপনার মতামত দিন