হেলাফেলার কারণে বাড়ছে নৌ দুর্ঘটনা

এম এইচ ইমন

বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। আমরা এ কারণে বেশ গর্বও করি। আমাদের দেশে প্রথমবার বণিকদের আগমনও এই নৌপথে। সে থেকে আজ ক্রমে ক্রমে আমরা আজ উন্নয়নশীল একটি দেশ। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে তিনটি (চট্রগ্রাম, মোংলা, পায়রা) সমুদ্র বন্দর আছে সে সাথে যোগ হতে যাচ্ছে আরও দুটি ( মাতার বাড়ি ও মিরসরাই, তথ্যসূত্রঃমানবকন্ঠ,২৯ই জুন ২০২০) সমুদ্র বন্দর ছাড়াও বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ছোট বন্দরও আছে।

আমাদের দেশের অনেক মানুষ যাতায়াতের সুবিধার জন্য নৌপথ বেছে নেন। নৌপথের ভ্রমণ নিরাপদ মনে করেন আমাদের দেশের লোক। বেশ কিছু এলাকার সাথে যোগাযোগের একমাত্র ব্যবস্থা নৌপথ। তবে সে নৌপথের নিরাপত্তা আজ পুনরায় প্রশ্নবিদ্ধ।
কিছুদিন আগে আঘাত হেনেছিলো ঘূর্ণিঝড় আম্পান তখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিলো আমাদের দেশের দুর্যোগ মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশের নদীর সংখ্যা যদি দেখি তাহলে শাখা প্রশাখা সহ ৮০০টি নদী আছে (উইকিপিডিয়া)।
বিআইডব্লিউটি, নৌ মন্ত্রণালয় দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের বেশ সুনাম অর্জন হলেও মানুষের জীবনের ঝুঁকি এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধি এখনও হয়নি।

এই ৫০(১৯৬৭ থেকে ২০১৬) বছরে ২ হাজার ৫৭২টি নৌ দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় সম্পদের ক্ষতি হয়েছে ৩ হাজার ৪১৭ কোটি ২০ লাখ টাকার। দীর্ঘ এ সময়ে দুর্ঘটনাকবলিত নৌযানের সংখ্যা ২ হাজার ৬৭২। এর মধ্যে ৯০১টি নৌযান উদ্ধার সম্ভব হয়নি। (তথ্যসূত্রঃপ্রথম আলো, ২৬ই মে ২০১৭)

১৯৭৬ সাল থেকে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত মোট ৬৫৭টি নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৭১১ জন মানুষ মারা গেছেন। এছাড়া ৫৩৯ জন আহত এবং ৪৮২ জন নিখোঁজ হয়েছেন। (তথ্যসূত্রঃসিলেটিভিউ,১৪ই নভেম্বর ২০১৯)

বাংলাদেশের কিছু নৌ দুর্ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিতে চায় না, সম্প্রতিকালের ঘটনা সবার মাথায় এখনও ঘুড়ছে।তারপরও নিচে কিছু প্রতিবেদন যুক্ত করে দিব। আশা করি কিছু তথ্য পাবেন।

বাংলাদেশের নৌ দুর্ঘটনার কথা নতুন নয়। প্রতিবছর শতাধিক মানুষ মৃত্যু বরণ করেন এই দুর্ঘটনায়। দোষ জনগন এবং প্রশাসন দুই পক্ষেরই। জনগন তো সুযোগ নিবে এটাই স্বাভাবিক। ভাল ছাত্রটাও সুযোগ পেলে পরীক্ষায় ভাল নাম্বারের আশায় নকল করে। তবে প্রশাসন যে পুরোপুরি সচেতন তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মাস্টার মেরিনাসের মতে, শতকরা ৩৪ভাগ লঞ্চ ডুবি অতিরিক্ত যাত্রী নেয়ার কারণে।

এবার মন্ত্রণালয়ের কিছু কথা বলি। বাংলাদেশের কোস্ট ট্রাস্ট নামের একটি সংগঠন এই নৌ দুর্ঘটনা পিছনে ১০টি কারণকে চিহ্নিত করেছেন। নিচে বিস্তারিত তুলে ধরছি-

১-নকশাজনিত ক্রুটিঃ
বলা হয় সুস্থ সুন্দর দেহই পারে যেকোন পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে, বাস্তবে আমাদের নৌপথের যে নৌযান তাতে রয়েছে ভিন্নতা। আমি বলছি নকশাজনিত ত্রুটির কথা। বাংলাদেশ যদিও বিদেশি অর্থ অর্জনে পুরাপুরি সক্ষম হলে জাহাজের নকশা নির্মাণের অর্থ চলে যাচ্ছে দেশের বাহিরে। শুধুমাত্র নিজেদের সচেতনতার অভাবে।এই নকশার জন্য ট্রোয়িং ট্যাংক লাগবে, ৫০কোটি টাকার বাজেটও দেয়া হয়েছে। তবে ট্যাংকটি বসানো হয়েছে কিনা তার কোন প্রমাণ আপাতত পায় নি।
বুয়েটের একজন শিক্ষকের একটি মন্তব্য এই লিংকে – বাংলাদেশ এ এখন পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সকল বড় ধরনের লঞ্চ দুর্ঘটনার গুলোর মূল কারন কি জানেন ?

২-চালকের অদক্ষতাঃ-
একজন চালকের পরিবর্তে অন্যজন লঞ্চ চালাচ্ছে। তবে তা বাড়িতে কিংবা কোন পুকুরে খেলনায় নয় সরাসরি নদীতে, যাত্রীবাহী লঞ্চ। যাত্রীরা বললে কর্ণপাত করারও সময় নেই।
লঞ্চ চালাকের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে এমনটাই দেখা যায় নৌ পরিবহনের ওয়েবসাইটে। তবে আমাদের দেশে জ্ঞানের চেয়ে বেশি খুঁজে দক্ষতা। যাদের দক্ষতা থাকে তাদের কোন শিক্ষা থাকা লাগে না, কারণ তারা ছোটবেলা থেকেই অমুক ওস্তাদের সহযোগী হয়ে কাজ শুরু করে এবং যুবক হতে না হতেই হয়ে যায় চালক। দেশের বিভিন্ন ছোট ট্রলার, স্পিডবোট এসব যারা চালায় তাদের কোন কোর্স করে চালায় বলে প্রমাণ নেই। লঞ্চ চালাতে সার্টিফিকেট লাগে কি না তারও কোন তথ্য নেই। তবে অদক্ষতার একটা প্রমাণ পেয়েছি এই লিংকে- চালকদের অদক্ষতায় লঞ্চ দুর্ঘটনার ঝুঁকি

৩-মাস্টার-সুকানির গাফিলতিঃ-
মাষ্টার মানে শিক্ষক। ভাবছেন নৌযান চালাতে আবার শিক্ষক কেন লাগবে? মাস্টারের অপর নাম ক্যাপ্টেইন।এখন বুঝেছেন সেই সব। কারণ প্রথম আমাদের ব্যবহৃত শব্দ বলেছি আর পরে যখন উচ্চমানের শব্দ বললাম তখন এই রকম ভাবনা আসার কথা। ক্যাপ্টেন বা মাস্টার নির্দিষ্ট মেয়াদের একটি কোর্স শেষে সার্টিফিকেট পেয়ে চাকরি পান, তার দেয়া নির্দেশনা মতেই চলে নৌ যান।

এবার বলি সুকানির কথা। সুকানি এক রকমের চুলকানি।চুলকানি শুরু হয় অর্থের অভাব থেকে। মানে হচ্ছে চালক।যে হুউল ঘুড়ায়। সুকানির শিক্ষিত বা কোর্সের দরকার নেই এটাই সত্যি, কারণ তার অভিজ্ঞতা থাকে। বর্তমানে বেশির ভাগ চালকের অদক্ষতা বলতেই এই সুকানির কথাই বোঝানো হয়। সুকানিরা লঞ্চে লঞ্চে ঘুরতে ঘুরতে চালক হয়ে যায়। তারপরে একদিন সে লঞ্চের বাবা বনে যায়।
আশা করি বুঝতে পেরেছেন আমি কি বোঝাতে চেয়েছি।
একটি লঞ্চ বা শিপে ক্যাপ্টেইন নির্দেশ করে আর সে নির্দেশ মোতাবেক সুকানি চালিয়ে নিয়ে যায়। এখন কথা হচ্ছে গাফিলতি কার থাকে?
আমাদের দেশের অধিকাংশ নৌ দুর্ঘটনার মূল হোতা এই দুই শ্রেণির গাফিলতি। এই লিংকে পড়ুন- নৌ দুর্ঘটনায় লঞ্চ মাস্টারদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

৪-অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহনঃ-
আমাদের দেশে পুলিশ বললে সবাই ধরে নেই টাকা দিলেই মুক্তি। অবশ্য পুলিশের প্রতি এখনও জনগণের বিশ্বাস আছে। করোনার এই সময় পুলিশের ভরসায় অনেকে বেঁচে আছে। তবে নানা ক্ষেত্রে অনিয়মে পুলিশের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।
আমি যখন পুরান ঢাকায় থাকতাম তখন প্রায় সময় বিকালে আড্ডা দিতে চলে যেতাম লঞ্চের উপরে। উঠতে কোন বাধা ছিল না। ছাড়ার আগে নামতে পাড়লে হতো।ভিতরে যেয়ে যা বুঝতাম কেবিনের জন্য শর্ত অাছে তবে ডেকের জন্য কোন নিয়ম নেই। যত ইচ্ছে লোক উঠতে পারে, মালামাল সে তো টাকার খেলা।
একবার ফরিদপুর গেছিলাম বাইকে। মাওয়া ঘাট থেকে ফেরীতে ওঠেই ভয় শুরু। যে হারে মানুষ আর গাড়ি আছে তা দেখে ভয় না লাগার কারণ নেই। পরিবেশ বেশ অপরিষ্কার। মুরগীর ভ্যান,শাক সবজির পিক আপ, মালভর্তি কিছু গাড়ি সে সাথে যাত্রীবাহী গাড়িও ছিল।
ফেরীতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ছিল। তবে মালামাল উঠানোর জন্য আজও প্রশাসন যে কঠোর তার প্রমাণ কোথাও পেলাম না।
বাঙ্গালী প্রবাদে-‘যা রটে তার কিছুটা হলেও ঘটে।’
তাহলে এটার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হওয়ার প্রশ্নই আসে না।

৫-নিরাপত্তা আইন অমান্যঃ-
একটি দেশের মানুষ কোন কিছুকে বিশ্বাস না করলেও বিশ্বাস রাখে দেশের আইন এবং বিচার ব্যবস্থার উপর, কিন্তু বর্তমানে আইন প্রয়োগ করতে চাইলে চলে আসে ধর্মঘট নামে নতুন এক পন্থা। ভালো কিছু বললে ধর্মঘট আর ছেড়ে দিলে জয়বাবা লোকনাথ। আমাদের দেশে নিরাপত্তা আইন প্রয়োগে বিভিন্ন সময় দেখি প্রতিবাদ হয়।বাস মালিক কিংবা শ্রমিক সংগঠন। এই বারে নৌ মালিকরাও করেছে, কারণ দোষ একটাই তাদের দোষ ধরেছে। আইন অমান্য করায় জরিমানা করেছে তাই ধর্মঘট। বর্তমানে দেশের আইন হলো কাঠের পুতুল, আর রাজা তো সব পকোট ভর্তি লোক।

৬-বাতি বা সার্চলাইট না থাকাঃ-
আমাদের দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি পরিচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ এই কথাটার সাথে। অনেকেই বলেন অপারেশনের সময় যে বাতি ব্যবহার করা হয়, আবার যারা সঠিক জানেন তারা এর অর্থ বোঝেন। এই অপারেশন সার্চলাইটের কারণে বাংলাদেশ একবার পঙ্গু হয়েছিল আর আজকাল লঞ্চ দুর্ঘটনায় সার্চলাইটের জন্য হাজার হাজার পরিবার পঙ্গু হচ্ছে।
জাহাজ কিংবা লঞ্চের সামনে বড় বড় কিছু লাইট দেখা যায়, যার মাধ্যমে রাতের বেলা আলোর মাধ্যমে দেখা যায় সামনে কোন বাহন আছে কিনা এবং পথে কোন বাধা আছে কি-না। তবে আমাদের দেশে কত শতাংশ জাহাজের সার্চলাইট আছে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায় নি।

৭-প্রতিযোগিতাঃ
কিছুদিন আগে আমি সেন্ট মার্টিন গেছিলাম। আসার সময় সামান্য সময়ের ব্যবধানে জাহাজগুলো ছাড়ে। মাঝ নদীতে এসে দেখা যায় প্রতিযোগিতা। এতে পর্যটকরা বেশ অনন্দও পায়।
আমাদের দেশে সড়ক পথে প্রতিযোগিতা না দেয়ার জন্য সংকেত ব্যবহার করা হয়। রেলে প্রতিযোগিতার কোন সুযোগ নেই তবে মাঝ নদীতে যদি লঞ্চের প্রতিযোগিতা দেয় তাহলে দোষ কার?
সেখানে তো কোন সংকেত নেই কিংবা চেকপোস্ট অথবা নেই কোন নৌ সার্জেন্ট। প্রতিযোগিতার কারণে নদীর মাঝপথে কি মামলা দেয়া হয়েছে কখনো শুনেছি এমন তথ্য?

৮-বেপরোয়া চালানোঃ-
গ্রামে আসার সময় রাস্তায় বিভিন্ন স্থানে স্থানে লেখা থাকে- ‘বেপরোয়া গাড়ি চালাবেন না, একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না।’ তবে নদী পথের মাঝে এই রকম কোন সংকেত নেই। তাই সেখানে চালাতে কোন বাধাও নেই। ভোরের কাগজে ১৯ই জানুয়ারী ২০২০ তারিখে একটি প্রতিবেদনে বলছে-গত কয়েক বছরে একাধিক নৌ দুর্ঘটনার কারণও এই বেপরোয়া চালানো। এই লিংকে পড়ুন- নৌদুর্ঘটনা এখন নিয়তি, দায় নেয় না কেউ

৯-আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কিত জ্ঞান না থাকাঃ-
বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদন এবং কোস্ট ট্রাস্ট সংগঠন নৌ দুর্ঘটনার পিছনে দায়ী করছেন এই কারণকে।
২০১৪ সালের মে মাসের ১৫ তারিখে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে এমভি মিরাজ-৪ ডুবে যাওয়ার পরে ৫৪টি লাশ উদ্বার হয়েছিল।

১০-চিহ্ন ছাড়া নদীপথে মাছ ধরার জাল পেতে রাখাঃ
বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। এই দেশের অনেক মানুষ মৎসজীবী। এই পেশায় জীবীকা আহরণ করতে যেয়েও নিজেদের অজান্তে তারাও মারছে মানুষ।

প্রতিবছর যখন লঞ্চ ডুবে তারপরেই সবার পরিবারকে সহযোগিতা দেয়া হয়। দুঃখের বিষয় হলো সঠিক পরিকল্পনার কারণে আমরা হারাচ্ছি আমাদের আপনজন।দোষ সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর নয়। সরকার তহবিল দিচ্ছে, তবে যাদের উপর দায়িত্বের ভার তারা কি সঠিকভাবে তা পালন করছে!

নৌ দুর্ঘটনায যত টাকা আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হয় তা দিয়ে যদি নদী পথের নিরাপত্তা এবং নৌ চলাচল সম্পর্কিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে তাহলে কি সমস্যা?

আমাদের দেশের কত শতাংশ নদীর পার বাঁধা আছে?আমাদের দেশের কতটি নদী পথের নির্দিষ্ট ম্যাপ আছে?আমাদের দেশে কতটি নৌ চলাচল সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান আছে?
দেশে বর্তমানে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। কিছুদিন আগে সংসদে হাসানুল হক ইনু স্যার বেকার নিরসনের একটি প্রস্তাব করেছিলেন। শুনে ভাল লেগেছে। আমাদের দেশে আজ আইনের চেয়ে ক্ষমতা বড়, জবাবদিহিতার প্রতি কোন দৃষ্টি নেই। সময়, অসুবিধা, অজুহাত এসব আজীবন থাকবে। বাংলাদেশের মানুষকে ৭ই মার্চ যখন বঙ্গবন্ধু ডাক দিয়েছিলেন তখন কোন অস্ত্র ছিল না, তারপরও আমারা স্বাধীনতা আনতে পেরেছি, কারণ আমাদের প্রাধান্য এবং চেষ্টা ছিল অতুলনীয়।

দেশের তরুণ প্রজন্ম চায় মানুষের জীবনের নিশ্চয়তা।দেশের মানুষের সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করুন এবং তা প্রাধান্য সহকারে। না হলে‍ সোনার বাংলা এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন অপূরণই থেকে যাবে।
make a plan to change the country, change the world.

এম এইচ ইমন
শিক্ষার্থী, সরকারী বাঙলা কলেজ, ঢাকা।

আপনার মতামত দিন