হয়তো মাওলানা সাহেব সে কল্যাণের পথই বাতলে দিয়েছেন

মাওলানা সাহেব লংমার্চে যাবো
মাসুদ পারভেজ

“বৎস এখনো ঘুমিয়ে আছো”?
এমন দরাজ গলায় ভালবাসা পূর্ণ ডাক আগে পাইনি বলেই আচ্ছন্ন ঘুমের ঘোর থেকে হকচকিয়ে লাফিয়ে বসলাম,
অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরে কুপি হাতে আধো আলোয়
খুব চেনা লাগছে পুরানো পাঞ্জাবি লুঙ্গি আর মাথায় টুপি পরা লোকটাকে।
এত দ্রুত স্মরণ করতে না পারার আক্ষেপ স্রষ্টার কাছে আমার বেশ পুরনো,
বলে উঠলেন, মিছিল মিটিং প্রতিবাদ বিদ্রোহ করে খুব ক্লান্ত বুঝি?
সাতপাঁচ না খুঁজে বলেই ফেললাম-দেখুন, আমি ওসবের মধ্যে নেই,
কপালে ঢেউয়ে মত চারটা ভাঁজ তুলে বললেন-
শুধু তুমি নও তোমরা কেউই নেই, কপাটবদ্ধ ঘরে যে আচ্ছন্ন ঘুমে তোমরা আছো, রাত কখনোই ফুরাবে না।
আচ্ছা ফারাক্কা বাঁধের কি খবর? সে লংমার্চে তুমি গিয়েছিলে?
আমি অবাক হলাম, যে লোকটা তর্জনী উঁচিয়ে রাখত সদা শাসক-শোষকের মুখের উপর,
যার ডাকে কৃষক কামার কুমার কুলি মজদুর লাখে লাখে বিক্ষোভে ফেটে পড়তো,
যিনি কথায় কথায় সমস্ত বাতিলের বিরুদ্ধে অনশনে বসে যেতেন অসুস্থ শরীরে,
অর্ধেকটা পৃথিবীর নিপীড়িত মানুষের প্রতিবাদী কন্ঠ,
সেই মজলুম জননেতা আমার সামনে!!
হৃদয়ের প্রতিটি দরজায় এক বিস্ময়কর শ্রদ্ধা আন্দোলিত হয়ে যেন পিতামহকে বলে ফেললাম- -মাওলানা সাহেব লংমার্চে যাবো।
তৃষ্ণার্ত এক অপরিণত হাসি লাগিয়ে ধীর পায়ে যেতে যেতে মাওলানা সাহেব বললেন- আযান হচ্ছে, আমার অযুর সময় হল।
আমি একটুও থামানোর দুঃসাহস করলাম না।
শরীরের প্রতিটি পশমের গোড়া ঘেমে উঠল,
বুকের ভেতর ধুপধুপ ঘন্টি বেজে হৃৎপিণ্ডে বাতাসের এক অস্বাভাবিক লেনদেন।
এবার সত্যিই আমার ঘুম ভেঙে গেল,
এপাশ ওপাশ তাকিয়ে দেখছি মাওলানা সাহেব নেই, দরজা খোলা।
কানে ধরা দিচ্ছে এক চিরসত্যের আহ্বান
” হাইয়াআলাস সালা,
হাইয়াআলাল ফালা”
যুগের মুয়াজ্জিন শুধু নামাজের জন্য ডাকেননি, ডেকেছেন কল্যাণের জন্য
সমবেত হবার জন্য, ঐক্যবদ্ধ হবার জন্য
হয়তো মাওলানা সাহেব সে কল্যাণের পথই বাতলে দিয়েছেন।

আপনার মতামত দিন