শত বছরের ঐতিহ্য পঞ্চগড়ের জগবন্ধু ঠাকুর বাড়ী

শেখ নাসির উদ্দিন:

ইতিহাস ঐতিহ্যের টানে এ বছরের মার্চ মাসে গিয়েছিলাম উত্তরের শেষ জেলা
হিমালয় কন্যা পঞ্চগড়ে। বলা চলে এই জেলার সাথে আমার নাড়ীর টান আছে৷
জন্মেছি এ জেলাতেই মামা,চাচারা এখানে বসবাস করলেও ভিন্ন কারণে টাঙ্গাইলে
বেড়ে ওঠা আমার।
এক বিকেলে সমবয়সী মামাতো ভাইকে বললাম চল ঘুরতে বের হই। যেই বলা
সেই কাজ ভ্যান চড়ে সবুজ ধান ক্ষেতের মাঝ দিয়ে পৌঁছে গেলাম করতোয়া নদীর
উপর দেওয়া বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুতে এই সেতু পেরিয়ে দেখা মিলল
শত বছরের ঐতিহ্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা পার্বণসহ ভিন্ন উৎসব উৎযাপনের
কেন্দ্র। জগবন্ধু ঠাকুর বাড়ী। যার অবস্থান জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলায়।
সরস্বতী পূঁজা,লক্ষী পূঁজা,কালি পূঁজা আর সবচেয়ে বড় করে দূর্গা পূঁজা পালন
করা হয় আর মন্দির প্রাঙ্গনে সাপ্তাহব্যাপী বসে মেলা।
জানাযায়,পঞ্চগড় ভারতবর্ষের কোচবিহারের অর্ন্তভুক্ত থাকাকালীন সময়ে তৎকালীন কোচবিহারের মহারাজা
নিপেদ্র নারায়ণ ১৯১৪ সালে জগবন্ধু ঠাকুর বাড়ী প্রতিষ্ঠা করেন।
শত বছরের পুরানো এই মন্দির দেখতে  প্রতিদিন ভীড় করে মানুষ।
মন্দির দেখতে আসাদের সাথেও কথা বলেছি আবুল হোসেন নামের একজন বলে,”মানুষের কাছে শুধু শুনি এখানে অনেক পুরানো মন্দির আছে,দূর্গা পূঁজায় মেলা বসে তো আজকে দেখতে আসলাম
দেখে খুব ভাল লেগেছে আমার।
স্থানীয় এক শিশুর সাথে আড্ডা জমে গিয়েছিল শ্রাবণ গোস্বামী নামের ঐ শিশু বলে,”ঠাকুর বাড়ীতে প্রতিবছর দূর্গা পূঁজা অনেক লোক আসে,মেলা বসে মাঠে আমরা খুব আন্দদ করি ।
আর বংশপরম্পরায় মন্দিরটির দেখা শোনার দায়িত্ব পালন করে আসছে স্থানীয় বাসিন্দা দিপা ভট্টাচার্য (৫০) পরিবার। তিনি আমাদের জানান,” ঠাকুর বাড়ীতে ১৯১৪ সাল থেকেই নিয়মিতভাবে বিভিন্ন পূঁজা চলছে,আগে মন্দির আমার শ্বশুর মশায় দেখাশোনা করত এখন আমার স্বামী দায়িত্ব পালন করছেন।

আপনার মতামত দিন